নবীনগরে ব্রিজের নিচে অবৈধ বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ, মোবাইল কোর্টে জরিমানা


তৌফিকুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টারঃ 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরর উপজেলার বিটঘর-গুড়িগ্রাম সড়কের সংযোগ  ব্রিজের নিচে বাঁধ দিয়ে গত দুই বছর যাবৎ প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ করে আসছে  স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান মিয়া (৫০)৷  এতে করে  ব্রিজের নিচ দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়  প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে পানি আটকে থাকে৷ ফলে জমিগুলোতে নতুন ফসল বুনা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় কৃষকগণ৷ 
 শনিবার বিকালে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে  মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারি  কমিশনার (ভূমি) মো. মোশাররফ  হোসাইন৷ এতে তিনি শাহজাহান মিয়াকে অবৈধ  বাঁধটি তাৎক্ষণিক অপসারণের নির্দেশ দেন৷ পরে অবৈধ বাঁধ নির্মাণকারীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এর ৬ ঙ ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে  নগদ ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড  প্রদান করেন৷ 
স্থানীয় সূত্র জানা যায়, অভিযুক্ত শাহজাহান মিয়া দীর্ঘদিন যাবৎ কৃষি জমির চারপাশে জাল বেড়া দিয়ে মাছ চাষ করছে৷ কিন্তু গত দুই বছর যাবত সে ব্রীজের নিচে অবৈধ  বাঁধ নির্মাণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে৷ এতে করে তার প্রজেক্টের বাহিরে থাকা জমিগুলোতে পানি আটকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে৷ ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকগণ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিকট অভিযোগ করে কোন সুরাহা না পাওয়ায়  এসিল্যান্ড বরাবর  অভিযোগ করেন৷ 
স্থানীয় বাসিন্দা লিটন মিয়া বলেন- শাহজাহান মিয়া দীর্ঘ দিন যাবৎ ব্রিজের নিচে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে৷ ফলে শতশত জমি সময়মত চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না 
জমির  মালিক আবুল বাশার (৬০) বলেন- এখানে আমারও বিঘা জমি আছে৷ শাজাহান আমাদের কাছ থেকে জমি  স্বল্প সময়ের জন্য ইজারা নিয়ে মাছ চাষ  করে৷ 
অভিযুক্ত শাহজাহান বলেন - এই বছর  পানি কম হওয়ায় ব্রিজের নিচে বাঁধ  দিয়ে পানি আটকে মাছ চাষ করছি৷ এতে কিছু লোকের সামান্য ক্ষতি হলেও আমার সংসারটা বেঁচে যায়৷ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোশাররফ হোসাইন বলেন- আমি স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করি এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত শাহজাহান মিয়াকে অর্থদণ্ড প্রদান করেছি এবং তাকে ব্রিজের নিচে বাঁধ নির্মাণ না করার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছি৷ আমার এধরণের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে৷