ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের পদ হারালেন আওয়ামী লীগ নেতা আসলাম মৃধা

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি 
মরণঘাতী মাদকদ্রব্য ইয়াবা-সেবন সহ বিভিন্ন দূর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ইউপি সদস্যদের অনাস্থার প্রেক্ষিতে অবশেষে ইউপি চেয়ারম্যানের পদ হারালেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কাইতলা (উত্তর) ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা এম আসলাম মৃধা৷ 
তাকে ইউপি চেয়ারম্যানের পদ থেকে বহিষ্কার করে ওই পদটি শূন্য  ঘোষণা করা হয়েছে৷ স্থানীয় সরকারের উপসচিব আবু জাফর রিপন পিএএ স্বাক্ষরিত ৪৬.০০.১২০০.০১৭.২৭.০০১.১৬.৫৭৮.স্মারকের এক অফিস আদেশে এ বহিষ্কার করা হয়৷ বহিষ্কারের আদেশ গত সোমবার  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  একরামুল সিদ্দিক বরাবরে আসলে তিনি পদটি শূন্য ঘোষণা করে পরবর্তী ব্যবস্থা  গ্রহণ করেন৷ 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কাইতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম আসলাম মৃধার বিরুদ্ধে মাদকগ্রহণ, দুর্নীতি,  স্বেচ্ছাচারিতা, অসদাচরণ, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য লিপি আক্তারের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও জুতাপেটা করা,  সরকারি ভাতা ভোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়, সরকারি ভিজিডির টাকা নিজের কাছে রেখে দেয়ার অভিযোগ এনে ১২ জন ইউপি সদস্য  জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অনাস্থা দেন৷ কাইতলা ইউনিয়নের ১২ জন অনাস্থা জ্ঞাপনপত্র স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দাখিল করলে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ আইন ৩৯(১৩) ধারা মোতাবেক অনুমোদন হয়৷ এর প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ সচিব বৃহস্পতিবার  চেয়ারম্যানের পদ শূন্য ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল সিদ্দিককে অফিস আদেশ দেন৷ 
এবিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল সিদ্দিক বলেন, বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অনাস্থার প্রেক্ষিতে কাইতলা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব এম আসলাম মৃধার পদটি শুন্য ঘোষনা করা হল। আমার মনোনীত উপজেলা সমবায় অফিসারের  করা তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্যারের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। সেই প্রেক্ষিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হল। উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক চেয়ারম্যান আসলাম মৃধার পদটি শুন্য ঘোষনা করে ২-৩ দিনের মধ্যে গেজেট বিজ্ঞপ্তি আকারে জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।