মেঘের এতো রং এত ভিন্নতা কেন?

মেঘের রঙের এত ভিন্নতা কেন? 
লিখেছেনঃ 
মোঃ মোশাররফ হোসাইন 
সহকারী কমিশনার (ভূমি )
নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

এই সময় সুযোগ পেলেই বৃষ্টি হানা দেয়। এই বৃষ্টি কারো জন্য আনন্দের আবার কারো জন্য বিরক্তিকর ও বিব্রতকর। আজ বৃষ্টি নিয়ে কথা বলব না কথা বলব বৃষ্টির উৎস মেঘের রঙ নিয়ে। এর আগে মেঘ কী একটু জেনে নেই।

মেঘ বলতে পৃথিবী অথবা অন্য কোনো গ্রহ, উপগ্রহ ইত্যাদির আবহমন্ডলে ভাসমান দৃশ্যমান স্ফটিক অথবা জলকণার সমষ্টিকে বোঝায়। মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে আকৃষ্ট দৃশ্যমান কোনো ভরকেও মেঘ বলা যেতে পারে, যেমন মহাশূন্যে ছড়িয়ে থাকা ইন্টারস্টেলার মেঘ এবং নীহারিকা। আবহাওয়া বিজ্ঞানের নেফোলজি বা মেঘ বিজ্ঞান শাখায় মেঘ নিয়ে চর্চা এবং গবেষণা করা হয়।

আকাশের রঙ নীল হলেও যখন আকাশে মেঘ দেখা যায় তখন তার রঙ নিয়ে আমাদের মনে জাগে প্রশ্ন। মেঘ কেন সাদা দেখায়? এছাড়াও সব সময় মেঘের রঙ সাদা দেখায় না কেন? মেঘের রঙ কালো হয়ে যায় কি কারণে? অর্থাৎ মূলত আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে মেঘের রঙ কেন সাদা কালো হয়? এর ব্যাখ্যা কি? কোনো বস্তু থেকে আমাদের চোখে আলো প্রতিফলিত হলেই আমরা সেই বস্তুতি দেখতে পারি। যে বস্তুতে আলো পড়ার পর তা থেকে কোনো আলো প্রতিফলিত হয় না সে বস্তুটি আমরা কালো রঙের দেখতে পাই। মেঘের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটি একই রকম। যখন মেঘে আলো পড়ে তা থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে তখন আমরা মেঘকে সাদা দেখি। আবার যখন মেঘে আলো পড়ে তা থেকে আলো প্রতিফলিত না হয় তখন আমরা মেঘের রঙ কালো বা ধূসর দেখে থাকি। মেঘ তৈরি হয় অনেক জলকণা দিয়ে। জলকণা পানির খুবই ক্ষুদ্র রূপ হওয়ায় এটা আমরা খালি চোখে দেখতে পারি না। তবে অনেক কণা এক সাথে থাকলে তখন আমরা সেটাকে মেঘের আকারে দেখতে পারি। আকাশের অনেক ওপরে তাপমাত্রা ভূমির তুলনায় বেশ কম থাকে, তাই কিছু কিছু জলকণা বরফ হয়ে যায়। এই বরফ হয়ে যাওয়া জলকণায় সূর্যের আলো প্রতিফলিত ও প্রতিসরিত হয়ে ছড়িয়ে যায়। যার কারণে আমাদের কাছে মনে হয় মেঘের রঙ সাদা। মাঝে মাঝে এবং বৃষ্টির সময় এই জলকণাগুলো বেশ ভারী হয়ে যায় এবং এরা আর মেঘ আকারে থাকতে না পেরে বৃষ্টির আকারে পড়তে থাকে। আর তখন জলকণাগুলোর ঘনত্ব অনেকখানি বেড়ে যায় বলে তাদের ভেতর দিয়ে সূর্যের আলোও আসতে পারে না। অর্থাৎ সাধারণ নিয়মে প্রতিফলন বা প্রতিসরণ ঘটে না। তাই তখন মেঘের রঙ আমাদের কাছে মনে হয় কালো অথবা ধূসর।

সর্বশেষ গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার এর একটা বৃষ্টির কবিতা যা পরে গানে রূপান্তরিত করা হয়েছে, এটি শুনে শেষ করি... সুর ও মূল শিল্পী : হেমন্ত মুখোপাধ্যায়

এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকেনা তো মন,
কাছে যাবো কবে পাবো
ওগো তোমার নিমন্ত্রণ।
যূথী বনে ঐ হাওয়া–
করে শুধু আসা যাওয়া,
হায় হায়রে দিন যায়রে
ভরে আঁধারে ভুবন।
শুধু ঝরে ঝরঝর আজ বারি সারাদিন,
আজ যেন মেঘে মেঘে হল মন যে উদাসীন।
আজ আমি ক্ষণে ক্ষণে–
কি যে ভাবি আনমনে,
তুমি আসবে ওগো হাসবে–
কবে হবে সে মিলন।